দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। গ্যালারিজুড়ে হাজারো দর্শকের নীরবতা, পরক্ষণেই মুহুর্মুহু করতালি। মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে লিওনেল মেসি। মুখে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করলেও চোখের কোণের অশ্রু জানান দিচ্ছিল বিদায়ের বেদনা। কোচ লিওনেল স্কালোনি, সতীর্থ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, এনজো ফের্নান্দেসসহ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানান দেশটির ফুটবল মহাতারকা।
আবেগঘন বক্তব্যে মেসি বলেন, দুই দশকের বেশি সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরতে পারা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। কঠিন সময়েও লড়াই থামাননি এবং দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর মাঠে না ফেরার বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জীবনের বাকি সময়ও তিনি এই দলের হয়ে খেলতে চাইতেন। তবে এখন তার মনে হচ্ছে, সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।
বিদায়ী ভাষণে গত বিশ্বকাপের স্মৃতিও তুলে ধরেন মেসি। সেই আসর তার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেক বেশি কঠিন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। কঠিন পরিস্থিতিতেও সতীর্থদের নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের পেছনে সতীর্থদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মেসি। শৈশবের স্বপ্ন পূরণে যারা তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান তিনি।
দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্মৃতিও উঠে আসে তার বক্তব্যে। মেসি বলেন, বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকা—যে প্রতিযোগিতাতেই আর্জেন্টিনা খেলেছে, সমর্থকেরা গ্যালারি ভরিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ ভ্রমণ করে দলের পাশে থাকা সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের সঙ্গে নিজের বিশেষ স্মৃতির কথাও বলেন মেসি। বিশ্বকাপ জয়ের পর একই মাঠে ফিরে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনের মুহূর্তকে ক্যারিয়ারের অন্যতম আনন্দের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সেই দিনের স্মৃতি ও ভিডিও দেখলে এখনো আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলেও জানান।
তবে একই মাঠে ফিরে এবার তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিষাদময় দিন পার করছেন বলে উল্লেখ করেন মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে লড়াই করা এবং সমর্থকদের ভালোবাসা তিনি খুব মিস করবেন বলে জানান। একই সঙ্গে জাতীয় দলের নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মেসি সতীর্থদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, বড় কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দল প্রয়োজন। কঠিন সময়ে দলের ভেতরের বন্ধনই শক্তির উৎস হয়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদায়ী বক্তব্যের শেষ দিকে মেসি বলেন, তার চলে যেতে ইচ্ছে করছে না এবং এই সবুজ গালিচা ছেড়ে যাওয়াটা কঠিন। একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের সঙ্গে নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারাকে জীবনের বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মেসির ভাষণ শেষ হওয়ার পর আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে ওঠে বুয়েনস আইরেসের আকাশ। সতীর্থরা তাকে ঘিরে ধরে উল্লাস করেন। আর অশ্রুসিক্ত চোখে দর্শকেরা বিদায় জানান আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘদিনের এই মহাতারকাকে।
এমএস/